বালিয়াকান্দি ( রাজবাড়ী ) ঃ পিছনের সমস্ত দিধাদন্দ ভুলে গিয়ে দলের জন্য একত্র হয়ে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌর, ওয়ার্ডসহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের নৌকার পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ঈদুল ফিতরের দিন এলাকাবাসীদের মধ্যে মত বিনিময় কালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য সলিসিটর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজবাড়ী-২ আসনের নেতাকর্মীকে দলীয় কার্যক্রম জনগনের সামনে তুলে ধরে নেতাকর্মীদের নির্বাচনমূখী হওয়ার উদাত্ত্ব ভাবে আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক উপ-কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য সলিসিটর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের প্রানের প্রতীক নৌকা মার্কা যে পাবে আমরা সকলে মিলে তার জন্যই কাজ করবো। ঈদের দিন জেলার কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের বাওকুড়ি গ্রামের সিনহা কিন্ডার গার্টেন স্কুলের উঠানে এলাকাবাসীদের সঙ্গে মত বিনিময় কালে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাংশা-কালূখালী-বালিয়াকান্দি আসনের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহনের প্রত্যাশী সলিসিটর মেহেদী হাসান এসব কথা বলেন।
তিনি এলাকাবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজ আপনারা আমার আগামীর পথ চলার প্রেরনা। আপনারা আমার শক্তি আপনাদের পাশ কাঁটিয়ে সামনে এগোনো কোন ভাবেই সম্ভব নয়। আমরা বারবার জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি/সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে নৌকার প্রার্থীকে জয়ের পথ দেখিয়েছি। কিন্তু সেই নেতারাই আমাদের অবমূল্যায়নের মধ্যে ফেলে রেখেছে। আমরা আওয়ামী লীগের দল করি। সেই স্থান থেকেই আমি আপনাদের মাঝে আসতে চাই। আপনারা আমার পাশে থাকলে অবশ্যই আমাদের স্বপ্নের দ্বারপ্রান্তে পৌছতে পারবো।
তিনি আরো বলেন, আমাদের পাশে থাকলে কখনো কখনো সমস্যা আসতে পারে। তবে তাতে ভয় পাবার কিছু নেই। কারন আমাদের সঙ্গে থাকবে আওয়ামী লীগের প্রধান থেকে শুরু করে সকল নেতবৃন্দ। আমরা কারো তাবেদারীর দল করি না। আমরা জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের গঠন করা তার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাল ধরা নৌকার দল করি। বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা যাঁকে পছন্দ করে নৌকা প্রতীক হাতে তুলে দিবেন আমরা তার জন্যই কাজ করবো। তবে কোন পেশিশক্তির নিকট নতযানু হবো না। আপনারা ধীরে ধীরে নৌকার পক্ষে প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যান। আপনাদের দোয়ায় আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীক আমাদের হাতে আসতে পারে ইনশাল্লাহ্।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কৃষি ও সমবায় বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য সলিসিটর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, ১৯৯০ সালে স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদের ক্ষমতা হারাবার পর ক্ষমতায় আসে বিএনপি সরকার। সেই আমলে তেমন কোন উন্নয়ন দেশে হয়নি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংখ্যা গরিষ্ঠভাবে ক্ষমতায় এসে দেশে প্রথমবারের মতো বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড হাতে নিয়ে পর্যায়ক্রমে কাজ করতে থাকে। বড়ধরনের উন্নয়নের মধ্যে বঙ্গবন্ধু সেতু উদ্বোধন করেন। যা উত্তরবঙ্গের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠে। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যাবস্থা ভূয়সি উন্নয়ন হয়। এমনকি সারা দেশের আনাচে কানাচে পাকা সড়ক নির্মান, ব্রীজ, কালভাট নির্মান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর উন্নয়ন, চিকিৎসা সেবার জন্য জেলা উপজেলার হাসপাতালের উন্নয়ন, সেসব স্থানে অ্যাম্বুলেন্স, প্রতিটি উপজেলাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থান গুলোতে ফায়ার সার্ভিস নির্মানসহ অনেক উন্নয়ন করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। ২০০১ সালে সুক্ষকারচুপির মাধ্যমে আবার বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করে দেশের অর্থ বিদেশে পাচারসহ বিভিন্ন লুটপাট করে দেশেকে সমগ্র বিশ্বের মধ্যে দূর্নীতিতে চাম্পিয়ান করে তোলে। যা বাঙ্গালী জাতীর জন্য এক কলংকিত অধ্যায়। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এক প্রহসনের নির্বাচন দিয়ে জাতীকে বিভ্রান্ত করে তোলে। সেই নির্বাচনকে বাঞ্চাল করতে সমগ্র দেশে আন্দোলনে ফেটে পড়ে বাঙ্গালী জাতী। মাত্র কয়েকদিন ক্ষমতায় থেকে পূনরায় নির্বাচন দিতে বাধ্য হয় তৎকালিক জোট সরকার। এবং তত্বাবধায়ক সরকার হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয় ফকরুদ্দিন আহম্মদকে। তার সঙ্গে সংগ দেন তৎকালীন সময়ের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ময়নুদ্দিন আহম্মদ। তারা কোন প্রকার সংবিধান ছাড়াই ক্ষমতায় থাকে দীর্ঘ ২ বছর। আন্দোলনের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে ক্ষমতায় অধিষ্টিত হয়। এরপর থেকে দেশের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার উন্নয়ন কাজ করতে থাকে আওয়ামী লীগ সরকার। নিজস্ব অর্থায়নে হাতে নেয় দেশের সর্ববৃহৎ পদ্মাসেতুর কাজ। যা আজ প্রায় ৭০ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে থাকতে পদ্মাসেতুর কাজ শেষ করে উদ্বোধন করবে ইনশাল্লাহ্। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজবাড়ী-ফরিদপুর, কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া রেললাইনের কাজ সম্পন্ন করেছে। সেই রেল দিয়ে ট্রেন প্রতিনিয়ত চলাচল করছে। নির্বাচনের ইস্তেহারে থাকা ঘরে ঘরে বিদ্যূৎ নিশ্চিত করতে আজকের সরকার বিদ্যূতের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে আমাদের সরকারের ওয়াদা ঘরে ঘরে বিদ্যূৎ পৌছে দিতে পারবে।
সম্প্রতি বিএনপি দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশকে হেয় করতে বিভিন্ন প্রকার মিথ্যাচার করে চলেছে। তারা এই দেশেকে জঙ্গী, সন্ত্রাসী ও উশৃংঙ্খল যুবকদের দিয়ে উন্নয়নের বাধা গ্রস্থ করতে চাচ্ছে। দেশকে জিম্মি করার পাঁয়তারা করছে। কিছু সময় কিছু স্থানকে সাময়িক জিম্মি করতে পারলেও তাদের হাত থেকে এই জিম্মি দশা থেকে দেশকে মুক্ত করতে নিজেদেরকে শক্ত হতে হবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ ও মরণ নেশা মাদকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তুলেতে হবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে এই দেশে উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। আমরা সেই নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। ২০২১ সালের মধ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে সবাই একত্র হয়ে কাজ করে যাব এটা আমাদের অঙ্গীকার। আমরা এরই মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন সার্থক করতে মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটালাইট উৎক্ষেপন করেছি। এটাও বাঙ্গালী জাতীর জন্য একটি বড় পাওয়া। আওয়ামী লীগ সরকার দেশের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য সব সময় কাজ করে চলেছে। দেশে শিক্ষর মান উন্নয়ন হলে দেশ অবশ্যই উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে পৌছাবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর নেতৃত্বে দেশে উন্নয়নের কাজে আপনিও অংশগ্রহন করবেন বলে আশা রাখি।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ী-২ পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালী থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি ও সমবায় বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য সলিসিটর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান মনোনয়ন প্রাপ্তির জন্য জোড় তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।
সলিসিটর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, আমি শুনেছি আমাদের জেলার বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কোন্দল চলছে চরমে তবে আমি আশা করবো দলীয় কোন্দল ও ভেদাভেদ ভূলে সবাই মিলেমিশে একসাথে কাজ করতে হবে, এবং প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।
